
আগামীর বাংলাদেশ ডেস্ক— হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি বন্ধে নির্বাচন কমিশনের কিছুই করার নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রাশেদা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘হরতাল-অবরোধ কে দেবে, কে দেবে না তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছুই করার নেই। তবে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ব্যাপারে সজাগ রয়েছে। ভোটের পরিবেশ তৈরি আছে এবং তৈরি থাকবে, তা যে কোনোভাবেই হোক। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রস্তুত রয়েছে। সংবিধান মেনেই দেশে একটি সুন্দর, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে।’
শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের সভাকক্ষে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
‘যথাসময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে’ জানিয়ে ইসি রাশেদা বলেন, ‘ভোটের তারিখ পেছানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য মিডিয়ার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘আগে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করা হতো। সেখানে কোনো শাস্তির বিধান ছিল না। এখন ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে তাকে শাস্তির আওতায় আনার বিধান রয়েছে।’ এখন কেউ ভোটারদের রাতের আধারে ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে নিকটতম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাঠপর্যায়ের প্রশাসনও এসব বিষয়ে বেশ আন্তরিক আছে।
রাশেদা সুলতানা বলেন, আমরা প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সুষ্ঠু, অংশগ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত। আসন্ন নির্বাচনে যাতে সবাই সমন্বিত হয়ে কাজ করতে পারে, এই বার্তাটি দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। আমার বিশ্বাস, আমরা জাতিকে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারব।
এর আগে সকাল ১০টায় বিভাগীয় সদর দপ্তরে কমিশনারের কার্যালয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন রাশেদা সুলতানা। সভায় রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মো. আবদুল বাতেন, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান ছাড়াও রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সকল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান।


