
নিজস্ব প্রতিবেদক— বিএনপির ডাকা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচির শেষ দিনে বরিশাল নগরের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করেছেন দলটির নেতা–কর্মীরা। এ সময় রূপাতলী এলাকায় কয়েকটি যানবাহনে ইটপাটকেল ছুড়ে ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন সিকদারের নেতৃত্বে নগরের রূপাতলী শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে যানবাহন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন নেতা-কর্মীরা। এতে বেশ কয়েকটি যানবাহনের কাচ ভেঙে যায়। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন নেতা-কর্মীরা।
এ ছাড়া সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অবরোধ কর্মসূচির সমর্থনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন। নগরের সোনালী আইসক্রিম মোড়ের বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। এসব ঘটনায় চারজনকে আটক করে পুলিশ। তাঁরা হলেন ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য মোনায়েম খান, সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. মহসিন ও একই ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. মাসুদ এবং একজন কর্মী (নাম–পরিচয় জানা যায়নি)।
এদিকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ডাকা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচির তৃতীয় দিনে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার যান চলাচল বেড়েছে। সকাল থেকে ছেড়ে গেছে অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চ। এ ছাড়া বেলা ১১টার দিকে নগরে মোটরসাইকেল মহড়া দেয় মহানগর আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।
মহানগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জাহিদুর রহমান বলেন, সরকার দমন-পীড়ন, গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে মাঠে নামতে দিচ্ছে না। এরপরও বরিশালে বিএনপির নেতা-কর্মীরা নানা কৌশলে মাঠে আছেন। ইতিমধ্যে অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, সড়কে যান চলাচলে বাধা দেওয়াসহ নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজ দেখে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গতকাল রাতে চারজনকে পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রূপাতলীতে আজ দুপুরে একটি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।


